Logo
HEL [tta_listen_btn]

অভিনব কায়দায় গার্মেন্টসের পণ্য চুরি  লাঙ্গলবন্দে র‌্যাবের জালে চোরচক্রের ৭ সদস্য \ কাভার্ডভ্যান জব্দ 

অভিনব কায়দায় গার্মেন্টসের পণ্য চুরি  লাঙ্গলবন্দে র‌্যাবের জালে চোরচক্রের ৭ সদস্য \ কাভার্ডভ্যান জব্দ 

বন্দর সংবাদদাতা
অভিনব কায়দায় কাভার্ডভ্যান থেকে গার্মেন্টসের পণ্য গায়েব করে ফেলে চোরচক্র। রপ্তানীর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নেয়ার পথে চুরি করা পণ্যসহ ৭ চোরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) বন্দর থানার লাঙ্গলবন্দ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ২৬ হাজার ৯শ’ ৯৫ পিস গার্মেন্টস পণ্যসহ একটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, রিপন ওরফে ছোট রিপন (৪৩), বিল্লাল হোসেন ওরফে ছোট বিল্লাল (৩৬), নাঈম ইসলাম (২৭), আকাশ (২৬), সুমন (৩০), ফরিদ (৩৮) ও মঞ্জুর হোসেন জিকু (৩৮)। র‌্যাব জানায়, ফ্যাক্টরী থেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য গার্মেন্টস পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে নেয়ার সময় পথে করা হতো চুরি। কাভার্ডভ্যানের ৬০-৭০ ভাগ পণ্য নামিয়ে রেখে পুনরায় প্যাকেজিং করে বন্দরে পাঠাতো এই চোরচক্র। শনিবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে র‌্যাব-৪ প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে পরিচালিত ৭টি অভিযানের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গার্মেন্টস পণ্য চুরি প্রক্রিয়ার একটি সাধারণ ধারণা পাওয়া যায়। জানা যায়, চক্রটির একাধিক মাস্টারমাইন্ড গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনে কাভার্ডভ্যানের ড্রাইভার ও হেলপারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নির্জন স্থানে ড্রাইভার ও হেলপারের মাধ্যমে পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে যেতেন তারা। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, সেখানে দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যে মালামালের ৩০-৪০ ভাগ রেখে প্রত্যেক কার্টনে সমপরিমাণ জুট কাপড় রেখে আবার আগের মতো কার্টন বাঁধাই করে কাভার্ডভ্যানে লোড করে দিত চোরচক্র। এরপর কাভার্ডভ্যানটি বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে নিজস্ব মিনি কাভার্ডভ্যানে করে চুরি করা পণ্য নিজেদের সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে যায় চক্রটি। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বৃহস্পতিবার(২৬ জানুয়ারি) কাভার্ডভ্যান থেকে গার্মেন্টস পণ্য চুরির সময় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। চক্রটির মাস্টারমাইন্ড রিপন ও বিল্লাল কিছু সময়ের মধ্যে চুরি করা গার্মেন্টস পণ্য বুঝে নিতে আসলে তাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব জানায়, চোরচক্রের শিরোমণি রিপন ২০১৭ সালে রেন্ট এ কারের চালক হিসেবে কাজ করার সময় গার্মেন্টসপণ্য চোরচক্রের হোতাদের সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে রিপন নিজেই একটি চক্র গড়ে তোলে। মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, রিপনের প্রধান সহযোগী গ্রেফতারকৃত বিল্লাল। মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে রিপনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিল্লাল গোডাউন ভাড়া করার বিষয়টি দেখভাল করতেন। রিপন কাভার্ডভ্যান নির্ধারণ করে নাঈমকে অবগত করতেন। এরপর তিনি কাভার্ডভ্যানটি পূর্বনির্ধারিত গোডাউনে পৌঁছানো এবং গার্মেন্টস পণ্য চুরির সময় আশপাশে নজরদারীসহ সার্বিক দায়িত্বে থাকতেন। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত ফরিদ প্যাকেজিং করার কাজে অত্যন্ত দক্ষ হওয়ায় তিনি কাটুন থেকে মালামাল বের করে পুনরায় কাটুন প্যাকেজিং করতেন। মঞ্জুর গোডাউনের মালিক এবং ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী। তার কাছে থাকা গ্যান্ডিং মেশিন দিয়ে কাভার্ডভ্যানের নাট-বল্টু কাটতেন। ড্রাইভার আকাশ ও হেলপার সুমন মূলহোতা রিপনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে তার কথামতো নির্ধারিত গোডাউনে গাড়ি পার্ক করতেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় গার্মেন্টস পণ্য চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Theme Created By Raytahost.Com